দুশ্চিন্তা
প্রীতম ভট্টাচার্য
বাঘ প্রতিদিন হরিণ খায়—
তবু
হরিণ কমে গেলে
বাঘ বেড়ে ওঠে না।
হরিণও প্রতিদিন
ঘাসের শরীরে লিখে যায়
নিজের ক্ষুধার ইতিহাস।
তবু
ঘাস কমে গেলে
বনের সবুজ
অলৌকিকভাবে বাড়ে না।
এই সহজ অঙ্কটাই
আমাকে সবচেয়ে বেশি ভয় দেখায়।
কারণ,
প্রকৃতি কখনো
শুধু যোগ-বিয়োগে বিশ্বাস করে না।
বাঘ আর হরিণ
একই বনের নীরবতায়
পৃথক ক্ষুধা নিয়ে বেঁচে থাকে—
কখনও শিকারি,
কখনও শিকার,
কখনও শুধু
একই নিয়তির দুই প্রান্ত।
তারা
উপোসের মধ্যেও সহবাস করে,
আশ্লেষের ভেতর ঘৃণা লুকিয়ে রাখে,
ঘৃণার ভেতরও
এক অদ্ভুত নির্ভরতার উষ্ণতা।
আমি দাঁড়িয়ে থাকি
এই অসমাপ্ত সমীকরণের সামনে।
ভাবি—
পৃথিবী কি সত্যিই
খাদ্যশৃঙ্খলের ওপর টিকে আছে,
নাকি
পরস্পরের অভাবের ওপর?
তাই বলি,
এটাকে কবিতা বলো না।
এ এক বিশুদ্ধ রূপকথা—
যেখানে
সবাই বাঁচতে চায়,
কিন্তু কারও বেঁচে থাকা
কারও মৃত্যুর বাইরে সম্পূর্ণ হয় না।