প্রীতম ও তার কথা 


 বড় অসময়ে চলে গেলেন একজন কর্মপাগল মানুষ l

আজ যদি তার কথা না বলি তাহলে অকৃতজ্ঞ হয়ে রইবো। প্রীতমের সাথে আমার পরিচয় ২০১৩/১৪ সালে। তখন আমি উদয়পুর গার্লস স্কুলে (বর্তমানে ভগিনী নিবেদিতা)। উদয়পুর বইমেলায় দেখা। 

বিনম্র ভাবে নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন যে , রাম ঠাকুর প্রসঙ্গে আমার লিখাগুলোকে বই আকারে প্রকাশ করতে চান। সঙ্গে সঙ্গে আমি নাকচ করে দিলেও তিনি মাঝে মাঝে দেখা হলেই বলতেন। এমনকি উনার বোন আমার ছাত্রী পূজাকেও সাথে নিয়ে অনেকবার বলেছেন। 

আমার এক দাদা স্বর্গীয় ডঃ বিধান চন্দ্র দাস একসময় আমাকে এই স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন কিন্তু সাহস করতে পারি নি। প্রীতম সেই সাহস যুগিয়েছেন অনবরত।

 তারই ফলশ্রুতিতে ২০১৭ সালে উদয়পুর বইমেলায় আমার \"শ্রীরাম কথামালা\" প্রকাশিত হয়। 

যদিও এরপর আমাকে এবং প্রীতমকে শহরের তথাকথিত কিছু শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের শ্যেন্ দৃষ্টিতে পড়তে হয়েছে। প্রীতম কিন্তু কখনো তাদের বিরুদ্ধে কোনো কটুক্তি করেন নি । বরং বলতেন , ম্যাডাম যেটাতে আপনার ভালো হয় সেটাই করুন। এরপরও মাঝে মাঝে আমাদের বই সম্পর্কিত কথা হতো । আবারও চেয়েছিলেন l

আজ বারবার সেই কথাগুলো মনে পড়ছে। সহজ সরল যাপনে দিন কাটানো মানুষটির এই চরম পরিণতি মেনে নিতে মন চাইছে না। যেতে তো একদিন সবাইকেই হবে, তা বলে এভাবে? অসময়ে?

শুধু এটুকুই বলবো পরপারে ভালো থাকবেন l