বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তাপস দে-র প্রয়াণে ত্রিপুরায় শোকের ছায়া

আগরতলা, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: ত্রিপুরার রাজনৈতিক অঙ্গনের বর্ষীয়ান ও পরিচিত মুখ, প্রাক্তন বিধায়ক এবং তিপ্রা সিটিজেন্স ফেডারেশনের (TCF) আহ্বায়ক তাপস দে আর নেই। দীর্ঘ অসুস্থতার পর শুক্রবার গভীর রাতে, প্রায় ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তাঁর প্রয়াণে রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শনিবার তাঁর মরদেহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, জনপ্রতিনিধি, শুভানুধ্যায়ী এবং সাধারণ মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান। তিপ্রা মথার বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মাও প্রয়াত নেতার প্রতি অন্তিম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দলমত নির্বিশেষে তাপস দে-র রাজনৈতিক জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বহু মানুষ তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন।

১৯৬৫ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে শরণার্থী হিসেবে ত্রিপুরায় আসেন তাপস দে। ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। ১৯৭২ সালে সালগড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি ত্রিপুরার অন্যতম কনিষ্ঠ বিধায়ক হিসেবে বিধানসভায় প্রবেশ করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাপস দে প্রদেশ কংগ্রেসের সহ-সভাপতি-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে তিপ্রা মথায় যোগ দিয়ে তিনি জাতি ও উপজাতির মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য থাকলেও বিভিন্ন মহলে তাঁর অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার যথেষ্ট মূল্য ছিল।

জীবনের শেষ পর্যায়েও সক্রিয় রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি তাপস দে। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৮১ বছর বয়সে তিনি মোহনপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিপ্রা মথার সুপ্রিমো প্রদ্যোৎ কিশোর মাণিক্য দেববর্মার অন্যতম ঘনিষ্ঠ পরামর্শদাতা হিসেবেও তিনি রাজনৈতিক মহলে পরিচিত ছিলেন।

শরণার্থী জীবন থেকে উঠে এসে রাজ্যের রাজনীতিতে দীর্ঘ কয়েক দশক সক্রিয় থাকা তাপস দে-র জীবন ছিল সংগ্রাম, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং জনসম্পৃক্ততার এক দীর্ঘ অধ্যায়। তাঁর মৃত্যুতে ত্রিপুরার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতার শূন্যতা তৈরি হল। তাঁর প্রয়াণে বিভিন্ন মহল থেকে শোকবার্তা জানিয়ে তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে।